শিরোপার লড়াইয়ে উত্তাপ
Posted on May 09, 2026 10.3K
মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) শিরোপা লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়িয়ে দিল বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী। একের পর এক নাটকীয়তায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ এ আসরে। গতকাল পয়েন্ট হারিয়ে চাপে পড়েছে পাঁচবারের লিগজয়ী বসুন্ধরা কিংস। অন্যদিকে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে আবাহনী লিমিটেড।
গতকাল বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনায় বাংলাদেশ পুলিশ এফসির মুখোমুখি হন তপু বর্মণরা। ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ডরিয়েলটনের গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। তবে ৫৩ মিনিটে পাওলো হেনরিকের গোলে সমতায় ফেরে পুলিশ এফসি। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে পাওলো হেনরিক লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপরই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। প্রথমে প্রতিবাদ জানায় পুলিশ এফসি। এরপর দাবি করে দেশি ফুটবলারের পরিবর্তে বিদেশি ফুটবলার মাঠে নামানোর। তবে আইন অনুযায়ী দেশি ফুটবলারের পরিবর্তে দেশি ফুটবলারকেই মাঠে নামাতে হবে। এই ব্যাপারে তর্কবিতর্ক চলতে থাকে এক ঘণ্টা ১২ মিনিট! শেষ পর্যন্ত আইন মানতে বাধ্য হয় পুলিশ এফসি। ৯০ মিনিটের শেষ ম্যাচ শেষ হয় ১৬৮ মিনিটে! ম্যাচের বাকি সময়ে বসুন্ধরা কিংস জোরালো অনেক আক্রমণ করেও গোল করতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে। প্রথম লেগে পুলিশ এফসির কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল বসুন্ধরা কিংস।
এদিকে কিংসের পয়েন্ট হারানোর দিনে পিডব্লিউডিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে সুলেমান দিয়াবাতের গোলে এগিয়ে যায় আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। ৮২ মিনিটে কাজেম শাহর গোলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী। এ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় কিংসের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়েছে তারা। ১৬ ম্যাচ শেষে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে এখনো টেবিলের শীর্ষে আছে বসুন্ধরা কিংস। তবে তাদের সঙ্গে আবাহনীর ব্যবধান এখন মাত্র এক পয়েন্ট। ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আবাহনী। লিগের বাকি ম্যাচগুলো এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় উত্তেজনা ছড়িয়ে আছে সামনের ম্যাচ ঘিরে। পরের রাউন্ডেই মুখোমুখি হবে আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কুমিল্লায়, আবাহনীর হোম ভেন্যুতে। দুই দলের বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় এ ম্যাচকে অনেকেই ‘অঘোষিত ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন। প্রথম লেগে আবাহনীর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে বসুন্ধরা কিংস। লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করার জন্য সামনের ম্যাচে জয় প্রয়োজন তাদের।
