Latest News

নিজেকে অভিনন্দন জানানো ব্যানার দ্রুত সরানোর নির্দেশ

Posted on March 04, 2026   5.4K

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে লাগানো ব্যানার, বিলবোর্ড ও বিজ্ঞাপন দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, সকালে প্রধানমন্ত্রী গুলশান এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় হাতিরঝিলের পুলিশ প্লাজার সামনে তাঁর ছবিসংবলিত ব্যানার দেখতে পান। তখনই তা সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেন এবং দ্রুত সেটি অপসারণ করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বিলবোর্ড ও এলইডি স্ক্রিনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনও দ্রুত সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিন আগেও বিজয় সরণি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার সময়ে একটি এলইডি স্ক্রিনে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর ছবি প্রদর্শিত হচ্ছিল দেখে তিনি তখনই তা অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।


গতকাল প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করেছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক। উপকূলীয় ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, ডাকাতি, অবৈধ পাচার রোধ এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল বাড়াতে ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


এদিকে রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল মানার প্রবণতা বাড়ায় যানবাহনের গতি কিছুটা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সড়কে যানবাহন চলাচলের গতিপ্রকৃতি কেমন এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গতকাল উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিভিআইপি প্রটোকল ছাড়া চলাচলের কারণেই যানবাহনের গতি এক কিলোমিটার বেড়েছে।’


প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, মোটা চালের মূল্য বাড়ার খবর শুনেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।


কোস্টগার্ড মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে উভয়ে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।


আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাহিনীর সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, সমুদ্র উপকূল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোস্টগার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জনগণের স্বার্থে দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের জনসেবামূলক কাজগুলো অব্যাহত রাখার জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।


প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে কোস্টগার্ডের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বাহিনীর এই আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।


রুমন বলেন, পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই বাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে।


চালের দাম বৃদ্ধির খবর শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ : খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে- এমন খবর শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। গতকাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম বৃদ্ধির সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে দ্রুত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেন। তাৎক্ষণিক এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা গেছে।’


এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজ্ঞাপন এবং ব্যানার দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘উপকূলীয় ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, ডাকাতি, অবৈধ পাচার ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল বাড়ানো এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’


১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু : সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, নির্বাচনি আচরণবিধির কারণে বগুড়া সফর স্থগিত রেখে ১০ মার্চ সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তি থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বগুড়ায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা থাকলেও বগুড়া সদর আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় আচরণবিধির কারণে সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচন আচরণবিধি মেনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তিতে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। একই দিনে দেশের আরও ১৪টি স্থানে দলীয় নেতা ও মন্ত্রীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।


মন্ত্রী বলেন, নেতাদের সরাসরি তদারকিতে উপযুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘অগ্রাধিকার প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড’-এর বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। যদিও গত ২৩ তারিখ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হবে। পাইলট প্রকল্পে কতজনকে এই কার্ড দেওয়া হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কড়াইল, সাত তলা, ভাসানটেক ও ওলিটেক বস্তি মিলিয়ে প্রায় ৪৪ হাজার পবিরার চিহ্নিত হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ১৫ হাজারের বেশি, খুলনার খালিশপুরে ৭ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে। অন্যদিকে চরফ্যাশনে ৭৫০ এবং লামায় ৫৫০ পরিবার রয়েছে। এলাকাভেদে সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট সংখ্যার তথ্য ৮ মার্চ জানানো যাবে। ইতোমধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে।


জাহিদ হোসেন বলেন, কার্ডটি স্মার্ট কার্ডের আদলে তৈরি হবে। প্রতিটি পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এতে সংরক্ষণ করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রিন্ট করে বিতরণ করা হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি কার্ডের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে বড় বস্তি এলাকাগুলো যুক্ত হওয়ায়। কারা এই সুবিধার আওতায় আসবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারও কার্ড পাবে, তবে তারা কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না। তাদের কার্ডে কিউআর কোডের মাধ্যমে উল্লেখ থাকবে যে তারা রাষ্ট্রীয় তহবিলে অবদান রাখছেন। কর্মসূচিতে নারীর ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে মা যেন সন্তানের শিক্ষা ও পুষ্টিতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কতদিন পর্যন্ত এই সুবিধা পাবে কার্ডধারীরা এমন প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর সরকার দেশসেবার সুযোগ পেয়েছে। সফটওয়্যার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে সুবিধাভোগীর তালিকাও হালনাগাদ করা যায়। লক্ষ্য হচ্ছে-ধীরে ধীরে মানুষের স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা। এ ছাড়া পাইলটিং কার্যক্রম ১০-১২টি স্থানে নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয়। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগেই ভেন্যুগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানান জাহিদ হোসেন।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment