৮২৩ কোটি টাকাই পানিতে

Posted on March 31, 2026   5.9K

২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত খুলনা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু অপরিকল্পিত উন্নয়নকাজে সড়ক ও ড্রেন উঁচু করায় শহরের কয়েক হাজার বাড়িঘর সড়কের তুলনায় নিচে চলে গেছে। এতে বৃষ্টি হলেই ড্রেনের নোংরা পানি বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। এ ছাড়া নিয়মিত ড্রেনের পেড়ি মাটি উত্তোলন ও পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনায় অধিকাংশ ড্রেন বন্ধ হয়েছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ নেই। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। বর্ষা আসছে তাই নগরবাসীর মনে সেই ভয় ফের কাজ করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, খুলনার দুই পাশে ভৈরব-রূপসা নদীর একটা গতিপথ আছে। শহরের একটা ঢাল আছে। এটা নির্ণয় করে কাজ করা উচিত। কিন্তু ভেঙে ভেঙে আংশিক কাজ করায় জলাবদ্ধতা প্রকল্প বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলেই শহরের প্রাণকেন্দ্র রয়্যাল মোড়, শান্তিধাম মোড়, মহিবাড়ি খালপাড়, মৌলভীপাড়া, পিটিআই মোড়, বাস্তুহারা, চাঁনমারী, নবীনগরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সম্পাদক কুদরত-ই খুদা বলেন, পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের একটা মাস্টারপ্ল্যান দরকার। ভৈরব-রূপসার তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের সময় পানি নামতে পারে না। ফলে জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া ড্রেনগুলো উন্মুক্ত থাকায় গৃহস্থালি ময়লাগুলো ড্রেনে এসে পড়ে এবং পানি নিষ্কাশন বিঘ্নিত করছে। এদিকে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর চলমান প্রকল্প নিয়ে সরেজমিনে খোঁজখবর করছেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি জানান, অনেক স্থানে ড্রেনগুলো সরু। মূলত ড্রেনের নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ করা যাচ্ছে না। অনেক স্থানে ড্রেনের জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরি হয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, যারা সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছেন তাদের নোটিস দেওয়া হচ্ছে। তারা সরকারি জায়গা ছেড়ে দিলেই সেখানে ড্রেন নির্মাণ করা হবে। চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ হলে ভোগান্তি কমবে নগরবাসীর।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment