মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
Posted on May 06, 2026 7.3K
আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার স্বর্ণের দাম আরও ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত মিলতেই মার্কিন ডলার ও তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বলে বিশ্লেষকদের মত।
বুধবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ৭০৩ দশমিক ০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২৭ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে জুন ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৭১৪ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ‘ন্যায্য ও সমন্বিত চুক্তি’ ছাড়া তেহরান কিছুই মেনে নেবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা প্রক্রিয়ায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে চলমান সামরিক অভিযানে তিনি সাময়িক বিরতি দেবেন। এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভট্রেডসের বিশেষজ্ঞ রিকার্ডো এভানজেলিস্তা বলেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে এবং ২০২৬ সালে সুদের হার কমানোর মতো পরিবেশ তৈরি হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগর অঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডলার দুর্বল হবে এবং বন্ডের সুদহার কমবে- যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক। এ অবস্থায় বছরের শেষে স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে পাঁচ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে।
এদিকে, তেলের দাম কমার প্রত্যাশায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন অঞ্চল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাই এ প্রবণতার মূল কারণ।
সাধারণত তেলের দাম বেশি থাকলে তা মূল্যস্ফীতি বাড়ায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়ানোর দিকে ঠেলে দেয়। এতে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ উচ্চ সুদে অন্যান্য সম্পদ বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে। কিন্তু বর্তমানে তেলের দাম কমার ফলে সেই চাপ কিছুটা কমেছে, যা স্বর্ণের জন্য সহায়ক হয়েছে।
ডলার দুর্বল হওয়াও স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলেছে। কারণ ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য তখন তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে। দিনের পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হবে বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানের তথ্য, আর সপ্তাহের শেষে আসবে বহুল প্রত্যাশিত নন-ফার্ম পেরোল রিপোর্ট। এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করেই ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
