হাইকোর্টে গিয়ে ছেলের মৃত্যু প্রার্থনা বাবার!

Posted on July 11, 2024   10K

টানা ১১ বছরেরও বেশি সময় হয়ে গিয়েছে বিছানা থেকে ওঠেননি ছেলে। কলেজে একটি দুর্ঘটনার পর থেকে স্নায়ুর রোগে ভুগছেন তিনি। শরীরের ১০০ শতাংশই পক্ষাঘাতগ্রস্ত। দিনের পর দিন ছেলের অসহনীয় যন্ত্রণা, নিজেদের আর্থিক অসঙ্গতি এবং মানসিক অবস্থার কথা জানিয়ে আদালতে ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। 


তবে সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট।


গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চনমনে যুবক ছিলেন হরিশ। মোহালির চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। আচমকা দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি! ২০১৩ সালে কলেজের চার তলা থেকে পড়ে যান হরিশ। প্রাণরক্ষা হলেও শরীরের প্রায় সমস্ত অঙ্গই অকেজো হয়ে যায় তার। মাথার আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। দুর্ঘটনা নিয়ে ‘রহস্য’ রয়েছে বলেই দাবি পরিবারের। থানায় এফআইআর করেন হরিশের বাবা রানা। ছেলের চিকিৎসার জন্য একের পর এক বড় হাসপাতাল ঘুরেছেন তিনি। দীর্ঘ দিন চণ্ডীগড়ের পিজিআইতে হরিশের চিকিৎসা হয়েছে। তারপর এইমস, রামমনোহর লোহিয়া, লোকনায়ক এবং দিল্লির ফর্টিস হাসপাতালেও দেখানো হয়েছে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। 

দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় বিছানা থেকে ওঠেননি হরিশ। প্রতিদিন ছেলেকে একটু একটু করে বিছানার সঙ্গে মিশে যেতে দেখে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন হরিশের ৬২ বছরের বাবা রানা এবং মা নির্মলা দেবী। তাদের আবেদন, মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে ছেলেকে প্যাসিভ ইউথানাসিয়া (নিষ্কৃতি-মৃত্যু) দেওয়া হোক।


আদালতের কাছে রানা জানান, যখন বাবা-মা তাদের সন্তানের মৃত্যু কামনা করে, তখন তা নিষ্ঠুরতা নয়। সেটা আসলে ভালবাসার অভিশাপ। সেই ভালবাসার টানে ছেলের জীবন শেষ করে দেওয়ার অনুমতি চাইছেন আদালতের কাছে। সন্তানের শারীরিক কষ্টের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মানসিক এবং আর্থিক অবস্থার কথা হাইকোর্টে তুলে ধরেছেন রানা।


তিনি বলেন, “ছেলের ২৪ ঘণ্টা দেখাশোনার জন্য একজন নার্স রাখতে হয়। মাসে তার পারিশ্রমিক ২৭ হাজার রুপি। আর আমাদের সবার মাসিক উপার্জন ২৮ হাজার রুপি।”


বেসরকারি চাকরিজীবী রানা জানান, এখানেই শেষ নয়। ছেলের চিকিৎসার জন্য একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রয়েছেন। তাকেও ১৪-১৫ হাজার রুপি দিতে হয়। বছরের পর বছর সন্তান এবং তাদের কষ্ট বেড়ে চলেছে, ব্যয়বৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু, ছেলের ভাল হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন না। চিকিৎসকেরাও কোনও আশার কথা শোনাতে পারেননি। রানা বলেন, “হরিশের চিকিৎসা, ওষুধপত্রের জন্য যে ব্যয়ভার, তা বহন করতে পারছি না।”


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে ৫০ হাজার রুপি সহায়তা পেয়েছিলেন হরিশ। ওইটুকুই। হাইকোর্টে হরিশের বাবা-মায়ের আর্জি, “কী করে আমরা বেঁচে আছি, তা কেবল আমরাই জানি।  অন্যের প্রাণরক্ষা করতে নিজেদের অঙ্গ দান করব আমরা। অন্তত এটুকু সান্ত্বনা থাকবে যে, সেই মানুষটি ভালভাবে বেঁচে রয়েছে।” 

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment