২০০৯ সালের পর জন্ম নেওয়া সবার জন্য ধুমপান নিষিদ্ধ হচ্ছে যুক্তরাজ্যে
Posted on April 22, 2026 5.5K
নতুন প্রজন্মকে ধূমপানমুক্ত রাখতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এ সংক্রান্ত একটি আইন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করতে যাচ্ছে দেশটি। পার্লামেন্টে পাস হওয়া ‘টোবাকো অ্যান্ড ভেপস বিল’ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পর জন্ম নেওয়া কেউ জীবনে কখনও সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবেন না। এখন কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে হিসেবে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সম্মতি পেলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।
আইনটি সোমবার হাউস অব লর্ডসে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। ২০২৪ সালে বর্তমান লেবার সরকারের শুরুর দিকেই প্রস্তাবিত এই বিলের সব সংশোধনী পাস হওয়ায় এটি আইনে পরিণত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। বর্তমানে মালদ্বীপ ছাড়া আর কোনও দেশে এ ধরনের ‘প্রজন্মভিত্তিক ধূমপান নিষেধাজ্ঞা’ কার্যকর নেই।
কী থাকছে নতুন আইনে?
নতুন বিধানগুলো যুক্তরাজ্যের চারটি অংশ- ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে কার্যকর হবে। প্রধান পরিবর্তনগুলো হলো:
• ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতি বছর সিগারেট কেনার বৈধ বয়স এক বছর করে বাড়বে।
• ফলে ২০০৯ সালের পর জন্ম নেওয়া কেউই কখনও বৈধভাবে সিগারেট বা তামাকপণ্য কিনতে পারবে না।
• অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সিগারেট বা তামাক বিক্রি করলে খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা গুনতে হবে।
• তামাক ও ভেপ পণ্যের জন্য নতুন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হবে।
• শিশুদের খেলার মাঠ, স্কুল ও হাসপাতালের বাইরে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হবে।
• ধূমপানমুক্ত অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ স্থানে ভেপিংও নিষিদ্ধ হবে।
• ১৮ বছরের নিচে কেউ থাকলে গাড়িতে ভেপিং নিষিদ্ধ থাকবে।
• তামাক ও ভেপ পণ্যের বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে।
• প্রাপ্তবয়স্করা ভেপ পণ্য কিনতে পারলেও তরুণদের লক্ষ্য করে তৈরি কিছু পণ্য ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে পানশালার নির্দিষ্ট জায়গায় ধূমপান চালু থাকবে এবং ব্যক্তিগত বাসায় ধূমপান বা ভেপিং বৈধ থাকবে।
সংসদে প্রতিক্রিয়া
শাসক দল লেবার পার্টির সদস্য ব্যারোনেস গিলিয়ান মেরন এই আইনকে ‘এক প্রজন্মের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি ‘ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম’ গড়ে তুলবে এবং অসংখ্য প্রাণ বাঁচাবে।
অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ দলের সদস্য ব্যারন নেসবি খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ২০০ পাউন্ড জরিমানার বিধানসহ কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি জানান। তার মতে, ধূমপান কমাতে আইন নয়, সচেতনতা ও শিক্ষা বেশি কার্যকর হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে রাজকীয় সম্মতি সাধারণত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ইতোমধ্যে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক আইন হিসেবে এটি ‘রাজা ঘোষণাপত্রেও’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে খুব শিগগিরই এটি আইনে পরিণত হয়ে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
