৮০৮ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তির দাবি ভেনেজুয়েলার

Posted on January 27, 2026   10.6K

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার সোমবার জানিয়েছে যে, গত ডিসেম্বরের আগ থেকে এখন পর্যন্ত  ৮০০ এর বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারাকাস থেকে এএফপি জানায়, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের আগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়েছে মোট ৮০৮ জনকে।

তবে মুক্তির সংখ্যার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল। ভেনেজুয়েলার বন্দিদের পক্ষে কাজ করা সংগঠন ফোরো পেনাল জানিয়েছে, তারা ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৩৮৩ জনের মুক্তি যাচাই করতে পেরেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও রয়েছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ৮ জানুয়ারি সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২৬৬ জন। সরকারের ঘোষিত সংখ্যার বিষয়ে ফোরো পেনালের সহ-সভাপতি গনসালো হিমিওব এএফপিকে বলেন, ‘এটি আমাদের ট্র্যাক করা কোনো সংখ্যার সঙ্গেই মিলছে না।’

এদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, ওয়াশিংটনের নির্দেশে ‘অনেক হয়েছে, আর নয়’। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে দেশটির সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টার মধ্যেই তিনি এই অবস্থান নিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে আসার পর থেকে রদ্রিগেজকে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে—একদিকে দেশের ভেতরে মাদুরোপন্থীদের পাশে রাখা, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসকে অসন্তুষ্ট না করা। এই পরিস্থিতিতে তেল উৎপাদন পুনরায় শুরুসহ নানা দাবিতে ওয়াশিংটনের চাপ অব্যাহত রয়েছে।

নতুন দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সুর কঠোর করে রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদদের ওপর ওয়াশিংটনের নির্দেশ যথেষ্ট হয়েছে।’ রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন ভেনেজুয়েলানা দে তেলেভিসিওনে সম্প্রচারিত পুয়ের্তো লা ক্রুজ শহরে তেলশ্রমিকদের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার রাজনীতিকে আমাদের মতভেদ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিজেরাই মীমাংসা করতে দিন। ফ্যাসিবাদ ও চরমপন্থার পরিণতির সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে এই প্রজাতন্ত্রকে অত্যন্ত উচ্চ মূল্য দিতে হয়েছে। 

মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর ধারাবাহিক চাপ বজায় রেখেছে হোয়াইট হাউস। সেখানে সাবেক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। মাদুরোর সাবেক উপপ্রধান রদ্রিগেজ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার বলেছেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের শাসনে চলে না। তবে একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার পথেও হাঁটেননি। মাদুরো আটক হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভেনেজুয়েলাকে ‘চালাবে’ যুক্তরাষ্ট্র। পরে তিনি অবশ্য দেশের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দেন রদ্রিগেজকে। 

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment