Latest News

ভারতকে নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ত্রিদেশীয় সিরিজের দাবি

Posted on February 09, 2026   7.7K

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর নিরাপত্তা উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাশে দাঁড়ায়। এই অবস্থার মধ্যে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বর্জনের ইঙ্গিত এবং পরে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া, বিষয়টিকে আইসিসির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার প্রকাশ্য অবস্থান থেকে তারা সম্ভবত পিছু হটতে পারে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিসিবি ও বিসিবির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আইসিসি প্রতিনিধিদের দীর্ঘ এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের টেবিলে পৌঁছেছে, তিনি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, আজকের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মধ্যে একটি বৈঠক হতে পারে। এরপর দিনশেষের আগেই আইসিসি অথবা পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। ফলে ঘোষণা দিতে দেরি হলে উভয়পক্ষের জন্য তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কারণ ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে কলম্বো যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য সময় প্রয়োজন। ম্যাচটি সেখানে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।


জানা গেছে, আইসিসি এই অবস্থানে অনড় যে পাকিস্তানের কোনো দাবিই করার মতো ভিত্তি নেই। বরং সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তি (এমপিএ) এবং ডিসেম্বর ২০২৪-এ স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাকিস্তানের খেলা উচিত। ওই চুক্তিতে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের জন্য হাইব্রিড মডেলের প্রস্তাব ছিল।


পিসিবি ও বিসিবির দাবি ভারতের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ


ক্রিকবাজ জানায়, পিসিবি শুধুমাত্র নিজেদের জন্য নয়, বাংলাদেশের পক্ষেও ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ পুনর্বহালের দাবি তুলেছিল। আরও এক ধাপ এগিয়ে, উভয় বোর্ড ভারতের সঙ্গে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আইসিসি ভারতীয় বোর্ডের (বিসিসিআই) সম্মতি ছাড়া কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।


বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আগামী সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত থাকলেও বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন সেই সিরিজকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।


ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবি ও বিসিবির কিছু দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি অবশ্যই দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত এই জটিল সমস্যার সমাধান আইসিসির সদিচ্ছা এবং সব পক্ষের সঙ্গে, বিশেষ করে বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।


আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা লাহোরে উপস্থিত ছিলেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বোর্ড পরিচালক মুবাশির উসমানিও অনলাইনে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। তবে বেশিরভাগ আলোচনাই পর্দার আড়ালে দুবাই ও মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আইসিসি কর্মকর্তারা চলমান বিশ্বকাপ ও ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ বিষয়ক ইস্যু নিয়ে কাজ করছেন।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment