উপজেলায় এক রাতে ১২ গরু চুরি

Posted on December 04, 2025   8.5K

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক রাতে চার কৃষকের গোয়ালঘর থেকে অন্তঃসত্ত্বা দুই গাভিসহ ১২টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে ওইসব কৃষকের প্রায় ১২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় একজন কৃষকের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১১টা থেকে ভোররাত ৪টার মধ্যে মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের ওই চার কৃষকের গোয়ালঘর থেকে এসব গরু চুরির ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হলেন- সিংগারদিঘী গ্রামের মৃত নূরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম বাবুল, মৃত আব্দুর রশিদ ভূঁইয়ার ছেলে মাজহারুল ইসলাম লিটন, মৃত কলিম উদ্দিন সরকারের ছেলে এনামুল হক এবং গফুর আলীর ছেলে জামাল মিয়া।

কৃষক মাজহারুল ইসলাম লিটনের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা লাল রঙের ১টি গাভি, দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা লাল রঙের আরেকটি গাভি, কালো রঙের ১টি দেশি ষাড় এবং লাল রঙের সাত মাসের ১টি দেশি ষাঁড় বাছুর। চুরি হওয়া গরুর মূল্য ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। শফিকুল ইসলাম বাবুলের ষাঁড়, গাভি ও বকনা বাছুর ৪টি। যার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। এনামুল হকের এক লাখ টাকা মূল্যের দুটি ষাঁড় গরু এবং জামাল মিয়ার দুটি গাভি গোয়ালঘর থেকে চুরি হয়। চুরি হওয়া দুটি গাভির মূল্য এক লাখ ১০ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগী খামারি, কৃষক ও স্থানীয়রা বলেন, সম্প্রতি প্রতি রাতেই গ্রামে ব্যাপক হারে গরু চুরি হচ্ছে। চোরেরা প্রায় রাতেই কোনো না কোনো কৃষকের বাড়িতে এবং খামারে হানা দিচ্ছে। চুরির পর পিকআপে করে ওইসব গরু নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। গরু চুরি বেড়ে যাওয়ায় খামারি ও কৃষকরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তারা চোর চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে চুরি হওয়া গরু উদ্ধারে থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সিংগারদিঘী গ্রামের মাজহারুল ইসলাম লিটনের ভাষ্য, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে বসতবাড়ির পূর্ব পাশে গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দেখে ঘরে এসে ঘুমিয়ে পড়ি। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখি দরজা খোলা এবং ৪টি গরু নেই। অজ্ঞাত চোর বা চোরেরা গেয়ালঘরের দারজার তালা কৌশলে খুলে গরুগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া চারটি গরুর মূল্য ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।

ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, গরু চুরির বিষয়টি আমি জেনেছি। একজন কৃষক লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে কাজ করছে। একজন খামারি বা কৃষক অনেক কষ্ট করে গরু লালনপালন করেন। গরুগুলো চুরি হয়ে গেলে তারা নিঃস্ব হয়ে যান। তাই এসব বিষয়ে খামারি, কৃষক ও গ্রামবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে এবং তাদেরকে সতর্ক থাকতে বলেছি। আমাদের পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment