যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী নিহত: বাড়িতে শোকের মাতম, বিচার দাবি
Posted on April 25, 2026 9.3K
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া মাদারীপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার বিকালে বৃষ্টির বাড়ি চর গোবিন্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তার এমন প্রস্থানে পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে আছে।
নিহত বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করলেও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে তারা গ্রামের বাড়িতে আসতেন। তার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং বড় ভাই একজন ইঞ্জিনিয়ার। ছোটবেলা থেকেই বৃষ্টি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। এরপর থেকেই গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমে। সবাই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোকাহত।
নিহতের চাচাতো বোন তুলি আক্তার বলেন, ‘বৃষ্টি খুবই মেধাবী ও ভদ্র মেয়ে ছিল। সকালে তার বড় ভাইয়ের ফেসবুক পোস্ট দেখে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। এর আগে থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। কীভাবে তাকে হত্যা করা হলো, আমরা কিছুই জানি না। আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’
আরেক চাচাতো বোন ফজিলা আক্তার বলেন, ‘আমরা এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। দ্রুত হত্যাকারীদের শাস্তি এবং বৃষ্টির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’
নিহতের চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘সে বেঁচে থাকলে দেশের জন্য হয়ত অনেক কিছু করতে পারত। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’
বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, ‘২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য সে যুক্তরাষ্ট্রে যায়। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। পরে আমরা তার মৃত্যুর খবর পাই। আমি আমার মেয়ের মরদেহ দেশে ফেরত আনার এবং হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব জানান, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। এ ঘটনায় মূলত দূতাবাস কাজ করবে। পরিবার কোনো সহায়তা চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা দেওয়া হবে।
