বিপর্যয়ের মুখে দেশের বস্ত্র খাত
Posted on January 28, 2026 12K
বিপর্যয়ের মুখে দেশের বস্ত্র খাত। আমদানি করা সুতার সঙ্গে দেশের উৎপাদিত সুতার দামের তফাতের কারণে পিছিয়ে পড়ছে এ খাত। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এরই মধ্যে ৫০টি স্পিনিং (সুতা) মিল বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধের ঝুঁকিতে আরও ৫০টি। এ কারণে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে শুল্ক অরোপের সুপারিশও করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) ও বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ) এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চায়। তাদের দাবি, শুল্ক আরোপ করলে সুতার দাম বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে উৎপাদন খরচ। তখন বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশ থেকে পোশাক কিনবে। অন্যদিকে দেশি শিল্প রক্ষায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন চায় বিটিএমএ। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বস্ত্র খাতের সব কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিটিএমএ।
এদিকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সব স্পিনিং শিল্প রক্ষার দাবি জানিয়েছে স্পিনিং খাতের বৃহত্তম পেশাজীবী সংগঠন, স্পিনিং শিল্পে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। স্পিনিং মিল বন্ধ হলে তাদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য আজ রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে তারা। বিটিএমএ জানায়, প্রতিবেশী দেশের সরকার কর্তৃক বিভিন্ন প্রণোদনা ও ভর্তুকির সুবিধা নিয়ে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধায় বাংলাদেশে সুতা আমদানি হচ্ছে। এতে দেশি স্পিনিং মিলগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রণোদনার কারণে আমদানি করা সুতা প্রতি কেজি প্রায় ৩০-৩৫ সেন্ট কম দামে বাংলাদেশে আসছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অন্তত ৫০টি মিল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বিটিএমএর সাবেক পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার বলেন, ‘ট্যারিফ কমিশন আমদানির সব তথ্য যাচাইবাছাই করে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা বন্ডের বাইরে রাখার সুপারিশ করেছে, যা বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসংগত। কিন্তু কোথায় গিয়ে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে গেল? সরকার কি আসলেই শিল্প নিয়ে ভাবছে? তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় দেশি শিল্প রক্ষায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। সুতা আমদানিতে বিদ্যমান অসম সুবিধা অবিলম্বে বন্ধ করে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে টেক্সটাইল সেক্টর চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।’
