প্রেমিকের হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিলেন প্রেমিকা, দাঁড়িয়ে দেখলেন মৃত্যু

Posted on April 21, 2026   8.3K

‌‘অবহেলার’ চরম প্রতিশোধ নিতে নিজের প্রেমিককে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল ভারতের বেঙ্গালুরুর এক তরুণীর বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি পালন না করা এবং এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষোভ থেকে ওই তরুণী তার প্রেমিককে প্রথমে বিয়ের চমক দেওয়ার নাম করে হাত-পা বেঁধে ফেলেন এবং পরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর আঞ্জনাপুরা এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২৭ বছর বয়সী প্রেরণা এবং কিরণ একটি টেলিকম স্টোরে একসঙ্গে কাজ করতেন। গত এক বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে প্রেরণার অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে কিরণ তাকে এড়িয়ে চলছিলেন এবং বিয়ের বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছিলেন। এই অবহেলা সহ্য করতে না পেরেই চরম পথ বেছে নেন তিনি। গত মঙ্গলবার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কিরণকে নিজের ঘরে ডাকেন প্রেরণা।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কিরণ বাড়িতে আসার পর দুজনে বেশ কিছুক্ষণ গল্প করেন। এরপর প্রেরণা একটি ‘নতুন ধরনের সারপ্রাইজ প্রপোজাল’ দেওয়ার কথা বলে কিরণকে একটি চেয়ারে বসিয়ে তার চোখ বেঁধে দেন। কিরণ যখন হাত-পা বাঁধার বিষয়ে আপত্তি জানান, তখন প্রেরণা তাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে বিদেশে এই পদ্ধতি এখন বেশ জনপ্রিয়। সরল বিশ্বাসে কিরণ তা মেনে নিলেও তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কী ভয়াবহ পরিণতি তার জন্য অপেক্ষা করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিরণকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় চেয়ারে বেঁধে ফেলার পর প্রেরণা আগে থেকে মজুত করে রাখা দাহ্য পদার্থ তার গায়ে ঢেলে দেন এবং দেশলাই জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ভয়ংকর বিষয়টি হলো, কিরণ যখন বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিলেন, তখন প্রেরণা ঘর থেকে বেরিয়ে না গিয়ে পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও করেন এবং শান্তভাবে প্রেমিকের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেন।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই কিরণ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। 

বেঙ্গালুরু পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ডি এল নাগেশ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তরুণীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জেরার মুখে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। আপাতত খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment