Latest News

হরমুজে কোথায় কোথায় মাইন পাতা খুঁজেই পাচ্ছে না ইরান!

Posted on April 11, 2026   5.5K

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরানি সেনারা। শত্রুদের জাহাজ চলাচলের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এমনকি শত্রুরা যাতে সেখানে সামরিক শক্তি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সাহায্য করতে না পারে সেজন্য প্রণালীজুড়ে মাইন পেতে রেখেছে ইরানি সেনারা। আর সেই মাইনই এখন তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছিল, এখন আর তা চিহ্নিত করতে পারছে না ইরানি সেনারা। সেই কারণেই আমেরিকার শর্ত মেনে সব জাহাজের জন্য হরমুজ খুলে দিতেও পারছে না তারা। শনিবার ইসলামাবাদের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উঠতে পারে।

পশ্চিম এশিয়ার এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে সারাবিশ্বের মোট চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ খনিজ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে এই প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। সেই হরমুজেই মাইন পেতে শত্রু দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। আমেরিকার দাবি, পানিতে মাইন পাততে এবং তা সরিয়ে নিতে যে কৌশল এবং দক্ষতার প্রয়োজন হয়, ইরানের হাতে তা নেই। সেই কারণেই সমস্যা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত মাসে হরমুজে মাইন পাতার জন্য ছোট ছোট নৌকো ব্যবহার করেছিল ইরান। একটি নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছিল। সেখান দিয়েই ইরানের অনুমতি সাপেক্ষে আপাতত পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করছে।

ইরানের গার্ড বাহিনী হরমুজের নিরাপদ অংশের মানচিত্রও প্রকাশ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজে এলোমেলোভাবে মাইন পাতা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হয়েছিল কি না, সন্দেহ আছে। যদি রেকর্ড করা হয়েও থাকে, পরবর্তী সময়ে মাইনগুলো চিহ্নিত করা কঠিন। অভিযোগ, এমনভাবে মাইন পাতা হয়েছিল যে, পানির ধাক্কায় তা পূর্বের অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে। সেগুলো নজরে রাখার আর কোনও ব্যবস্থা রাখেনি ইরান।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, স্থলভাগে মাইন (ল্যান্ড মাইন) পাতা এবং তা চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু পানির মধ্যে মাইন পাততে আলাদা কৌশল প্রয়োজন। পানি থেকে মাইন সরানোর সেই বিশেষ কৌশল মার্কিন বাহিনীরও নেই। মাইন অপসারণের ক্ষমতা সম্পন্ন উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজের উপর তারা ভরসা করে থাকে। ইরান কী করবে, স্পষ্ট নয়।

গত মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানে শনিবার দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা হওয়ার কথা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বৈঠকে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment