ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪টি আসনে বিএনপির বড় বাধাঁ বিদ্রোহী প্রার্থী

Posted on January 28, 2026   9.7K

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের চারটিতেই বিএনপির ছয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ছয়জনই দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও  বিএনপির জন্য বড় বাধা ও অস্বস্থির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত প্রার্থীরা হলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ. কে. এম. কামরুজ্জামান, তিনি ঘোড়া প্রতিক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ.কে.এম. কামরুজ্জামান উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। 

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল চৌধুরী কলারছড়ি প্রতিক নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারনা চালাচ্ছেন। তিনি উপজেলার বুড়িশ্বর  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন। এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিকট গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছে ধানের শীষের সাথে কলারছড়ি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার দুই ইউনিয়ন) আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব  খেঁজুর গাছ মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তিনি মাঠে প্রচার প্রচারনা করছেন। তবে এ আসনে বহিষ্কৃত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সহ সম্পাদক ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতিক নিয়ে গ্রামের পর গ্রামে গণসংযোগ করছেন। 

এ ছাড়া বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে কলারছড়ি প্রতীক পেয়েছেন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার সরাইলের শাহবাজপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্য রুমিন ফারহানার সাথে বৈঠক করেন। রুমিন ফারহানার নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা স্থানীয়রা নিজ দায়িত্বে চালাচ্ছেন। মাঠে রয়েছে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা। যেখান গণসংযোগ করতে যান সেখানেই ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি ঘটে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-(নবীনগর) এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নান। বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ফুটবল মার্কা নিয়ে মাঠে গণসংযোগ করছেন। তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা কাজী মো. আনোয়ার হোসেন এ আসন থেকে ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

২০১৬ সালে তার বিএনপির চেয়ারপারর্সনে উপদেষ্টায় নিযুক্ত ছিলেন। এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে রয়েছে তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এ জনপ্রিয়তাকে নিয়ে কাজী নাজমুল হোসেন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম ওরফে জোনায়েদ সাকিকে ছাড় দিয়েছেন বিএনপি। এ আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মো. সাইদুজ্জামান কামাল হরিণ প্রতিক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন। 

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment