কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে সারা দেশ

Posted on March 19, 2026   8.5K

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ট্রেন, লঞ্চ, বাস কিংবা ব্যক্তিগত যানবাহনে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঈদের আগে এবং পরে ঢাকাসহ বিভাগীয় ও শহরাঞ্চলে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মলম ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। সক্রিয় হয়ে ওঠে চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্র। এদের তৎপরতা রোধে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ছুটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সারা দেশের বিভিন্ন লঞ্চ টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড ও মহাসড়কসমূহে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে নিরবিচ্ছিন্ন যান চলাচল এবং শিল্পাঞ্চল ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, ও র‌্যাব মাঠে রয়েছে।


ঈদ-পূর্ব এবং পরবর্তী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থা নিচ্ছেন পুলিশ, র‌্যাব, আনসার এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে কূটনৈতিকপাড়া, ব্যাংকপাড়া, রেলস্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালগুলো। গুজব প্রতিরোধে সমাজমাধ্যমে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। নজরদারি থাকবে সাইবার জগৎও। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ঈদকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুম, থানা কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সহযোগিতা নিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে রাতের বেলায় সব বাহিনীর টহল, চেকপোস্ট ও ফুট প্যাট্রল বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকার জুয়েলারি মার্কেটে পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে। বড় বড় ঈদের জামায়াত, বিনোদন কেন্দ্রসহ ভেন্যুকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন মার্কেট, বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার, আড়তের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্পর্শকাতর স্থান, সড়ক, স্থাপনা, মার্কেট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। ডাকাত, ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের ধরতে পুলিশ ও র‌্যাবের বিশেষ টিম মাঠে রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি যৌথ বাহিনীও তৎপর রয়েছে।


ঈদে যেন কোনো অপরাধ না ঘটে সে বিষয়ে তাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। চেকপোস্ট, প্যাট্রোল, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পিকআপ, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে টহল থাকবে। থাকবে ফুট প্যাট্রোলও। আবাসিক, বাণিজ্যিক, কুটনৈতিক ও ব্যাংকপাড়ায় বিশেষ নজরদারি থাকছে। গুলশান ও বারিধারায় সব দূতাবাস এবং সংলগ্ন সড়কে থাকছে গোয়েন্দা নজরদারি। পুলিশের সব ইউনিটের প্রধান এবং র‌্যাবের সব ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নিজ নিজ এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করবেন। পোশাকধারী ছাড়াও সাদা পোশাকে তারা মাঠে থাকবে।


পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পুলিশ সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা তদারকি নিশ্চিত করা হচ্ছে।


ফায়ার সার্ভিস বলছে, বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও নৌপথে আকস্মিক দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম, রেসকিউ বোট, ডুবুরি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামসহ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment