Latest News

সিলেটে ‘দানের টাকায়’ কোটিপতিদের নির্বাচন!

Posted on January 14, 2026   11.7K

সিলেট জেলার ছয় সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে ৩৮ জন বিভিন্ন দল মনোনীত। এ ৩৯ জনের মধ্যে ২২ জনই কোটিপতি। স্থাবর-অস্থাবর মিলে তাঁদের রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। অনেকের স্ত্রীর নামেও রয়েছে কোটি টাকার ওপরে সম্পদ। এর পরও এসব কোটিপতি প্রার্থীর বেশির ভাগই নির্বাচন করতে চান ‘দানের টাকায়’। পরিবারের দেশিবিদেশি সদস্য, আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে দান-অনুদান নিয়ে কোটিপতি প্রার্থীরা নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে চান।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সিলেট-১ আসনে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩০ টাকা। হলফনামায় তিনি সম্ভাব্য নির্বাচনি ব্যয় ধরেছেন ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা। আর স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ লাখ, ভগ্নীপতি ও ভাগনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা দান হিসেবে নিয়ে ব্যয় করবেন নির্বাচনে। মুক্তাদিরের পরই সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন। ৩ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ২৫ টাকার সম্পদের মালিক এই প্রার্থীর সম্ভাব্য নির্বাচনি ব্যয় মাত্র ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ১ লাখ এবং দান হিসেবে মা ও চার ভাই ৩ লাখ ও দলীয় নেতা-কর্মী ১ লাখ টাকা দেবেন। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়ার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭০ টাকা। নির্বাচনে তিনি নিজের আয় থেকে কোনো ব্যয় করবেন না। প্রবাসী ভাই ও ছয় বন্ধু এবং পরিচিত আরও ১২ ব্যক্তির কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা দান নিয়ে নির্বাচনে খরচ করবেন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৩০৩ টাকা। তিনি কোনো দান-অনুদান নয়, নির্বাচনে নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন ৩০ লাখ টাকা। সিলেট-২ আসনে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৯ টাকার সম্পদের মালিক বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর (ইলিয়াসপত্নী) সম্ভাব্য নির্বাচনি ব্যয় ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ৫ লাখ, ভগ্নীপতির কাছ থেকে ঋণ ৫ লাখ ও দুই প্রবাসীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান নিয়ে ব্যয় করবেন। খেলাফত মজলিসের মো. মুনতাসির আলীর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৪ টাকাতিনি নিজের আয় থেকে ১০ লাখ ৫৫ হাজার, দুই বোনের কাছ থেকে ৬ লাখ ঋণ, দান হিসেবে দুই বোনের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ এবং যুক্তরাজ্যের তিন প্রবাসীর কাছ থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে নির্বাচনে ব্যয় করবেন। জামায়াতের আবদুুল হান্নানের রয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৭ টাকার সম্পদ। তিনি নিজের আয় থেকে ১০ লাখ ও ইউকে ও ইউএসএ প্রবাসী আত্মীয়দের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা দান নিয়ে নির্বাচন করবেন। জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর আছে ১ কোটি ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার সম্পদ। তিনি নিজের আয় থেকে ১ লাখ ও ছেলের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান নিয়ে নির্বাচন করতে চান।

সিলেট-৩ আসনে সাত প্রার্থীর পাঁচজনই কোটিপতি। ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকার সম্পদের মালিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজু সম্পূর্ণ নিজের আয় থেকে ৫৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকা নির্বাচনে ব্যয় করতে চান। জাপা প্রার্থী আতিকুর রহমানের ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনিও নিজের আয় থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। বিএনপির মো. আবদুল মালিকের ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজের আয় থেকে ২০ লাখ ও ছেলের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দান নিয়ে ব্যয় করবেন। খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইনের ৩ কোটি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯২ টাকার সম্পদ রয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য ব্যয়ের ২৫ লাখ টাকার মধ্যে নিজস্ব আয় থেকে ১৫ লাখ ও পাঁচ প্রবাসী আত্মীয়ের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান গ্রহণ করবেন। জামায়াতের লোকমান আহমদের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকা। নির্বাচনে তিনি নিজের আয় থেকে ১০ লাখ, প্রবাসী আত্মীয় ও পরিচিতজনদের থেকে ২০ লাখ টাকা দান গ্রহণ করে ব্যয় করবেন। সিলেট-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ১৯ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৬ টাকার সম্পদ রয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য ব্যয় ৩৫ লাখ টাকার পুরোটাই তিনি করবেন নিজস্ব আয় থেকে। এনসিপির মো. রাশেদ উল আ

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment