প্রবাসী স্বামীর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালালেন স্ত্রী
Posted on June 25, 2025 5.5K
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হালিম খান নামে এক ইতালি প্রবাসীর লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে হালিম খানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হালিম রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের নগর গোয়ালদি গ্রামের মৃত হাজী বালা উদ্দিনের ছেলে। খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের উত্তর দারাদিয়া গ্রামের সোমেদ চৌকিদারের মেয়ে রেশমা বেগম ও পাশ্ববর্তী নগর গোয়ালদি গ্রামের ইতালি প্রবাসী হালিমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। পরে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা সোমেদ চৌকিদারকে ৬০ লাখ টাকা দেয় হালিম। এবং ইতালি থেকে আসার আগে নিজের জন্য মোটরসাইকেল কিনতে টাকা পাঠালে সেটাও তার শ্যালক সবুজ চৌকিদারের নামে কেনা হয়। একপর্যায়ে ইতালি থেকে দেশে এসে পাওনা টাকা ও মোটরসাইকেল ফেরত চান হালিম।
এ নিয়ে হালিমের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী, শ্যালকসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে সোমবার (২৩ জুন) রাতে শ্বশুর বাড়িতে ডেকে নিয়ে তারা হালিমকে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক হালিমকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ ফেলে রেখেই পালিয়ে যান দ্বিতীয় স্ত্রী রেশমাসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় অপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।
নিহত হালিম খানের মেয়ে হিমু আক্তার জানান, আমার বাবাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার বাবার মাথার পেছনে ও সারা শরীরে পেটানোর চিহ্ন রয়েছে। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
নিহত হালিম খানের ভাই আব্দুর রাজ্জাক খান জানান, নয় বছরের কামাইয়ের টাকা সব ওই স্ত্রীর কাছে ছিল। অনেক শখ করে একটা মোটরসাইকেল কিনেছিল তাও তার শ্যালকের নামে নিয়ে গেছে। এসব কিছু নিয়ে রাতে হালিমের সাথে ঝামেলা হয়েছিল। সকালেই পুলিশ খবর দিলে আমার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার হইছে। তার মাথায় ও সারা শরীরে আঘাতের দাগ আছে। এভাবে পিটিয়ে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানাই।
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। জানতে পারি স্ত্রী ও শাশুড়ী হালিমকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত্ ঘোষণা করে। এসময় তারা লাশ রেখেই পালিয়ে যায়। ঘটনাটি সন্দেহ জনক। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে লাশটি ময়নাতদন্তে জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
