যুবককে আটকে বুথ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ

Posted on July 21, 2025   10.1K

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে তার বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে অন্তত ৬ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। তাঁর সঙ্গে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকাও কেড়ে নেওয়া হয়। পরে এক নির্জন স্থানে ওই ব্যবসায়ীকে ফেলে যায় তারা। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের পর পুলিশে অবহিত করে।

ছিনতাইয়ের শিকার ওই ব্যক্তির নাম শাহজাহান বাদশা (৩০)। তিনি তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের মো. বাবুল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, শনিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মাওনা এলাকা থেকে একটি অপরিচিত প্রাইভেটকারে উঠলে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এরপর দিবাগত রাত একটা পর্যন্ত গাজীপুরের শ্রীপুরের-ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা মাস্টারবাড়ি ও সদর এলাকার মেম্বার বাড়ির এলাকায় নিয়ে এ ঘটনা ঘটায়।

স্বজনরা জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকা-ময়মসিংহ মহাসড়কে মাওনা এলাকায় গাড়ির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন শাহজাহান বাদশা। এ সময় অপরিচিত একটি প্রাইভেটকার ঢাকার উদ্দেশ্যে অনেক যাত্রী তুলছিল। তিনি সবার সঙ্গে সেই প্রাইভেটকারে উঠেন। এরপর একটু সামনে এগিয়ে গেলে তাকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

তারা বলেন, অন্তত ৬ ঘণ্টা তাকে জিম্মি করে তার বিভিন্ন ব্যাংকের বিপরীতে থাকা ডেভিড কার্ড থেকে টাকা তুলে নেয়। পরে ছিনতাইকারীরা তাকে মহাসড়কের অন্ধকারাচ্ছন্ন নির্জন স্থানে ফেলে চলে যায়।  

ছিনতাইয়ে শিকার শাহজাহান বাদশা বলেন, 'পরদিন একটি পরীক্ষা ছিল বলে আগের রাতেই ঢাকায় যাচ্ছিলাম। একদিন পরই ভ্রমণে যাওয়ার কথা ছিল।'

তিনি বলেন, মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভারের নিচে এক প্রান্তে গাড়ির দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় সেখানে একটি প্রাইভেট কার ঢাকার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন যাত্রী তুলছিল। তার সামনে প্রাইভেটকারে আরও কয়েকজন যাত্রী উঠেছেন। সেখানে তিনিও উঠে পড়েন। কয়েক মিনিট পরেই তাকে গাড়ির ভেতরে থাকা আরও চারজন জিম্মি করে ফেলেন। তারা অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা-পয়সা ও স্মার্টফোন নিয়ে নেয়। এরপর সঙ্গে থাকা চারটি ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নেয় তারা। এরপর জোর করে কার্ডগুলোর পিন নিয়ে আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বুথে গিয়ে পর্যায়ক্রমে ৬ লাখ টাকা তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা।  তার সঙ্গে থাকা প্রায় পঞ্চাশ হাজার নগদ টাকাও নিয়ে নেয়।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি থানার মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, 'আমরা বিষয়টি জেনেছি। পুরো ঘটনাটি জয়দেবপুর থানা এলাকায় ঘটেছে। কিন্তু তিনি যেহেতু শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে গাড়িতে উঠেছিলেন, তাই আমরা নিজ উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। খবর পেয়ে পুলিশ ওই সব এলাকায় কাজ শুরু করেছে। আশা করি দ্রুত অপরাধীদের ধরতে পারব। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment