শতকোটি রুপির এফডিআরসহ যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক থালাপতি বিজয়

Posted on May 10, 2026   11K

ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। প্রায় সাত দশক পর ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো দল রাজ্যে সরকার গঠন করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর নতুন করে সামনে এসেছে বিজয়ের বিপুল সম্পদের তথ্য।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী হলফনামায় থালাপতি বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে প্রায় ৬২৪ কোটি রুপি। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২২০ কোটি রুপি এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৪০৪ কোটি রুপি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার নামে কোনো ঋণ নেই।

হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ একটি সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ২১৩ কোটির বেশি রুপি। ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকের সালিগ্রামাম শাখায় থাকা এই অ্যাকাউন্টেই তার অস্থাবর সম্পদের বড় অংশ সংরক্ষিত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার মোট আয় ছিল ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ রুপি।

এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে তিনি প্রায় ১০০ কোটি রুপি ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) হিসেবে রেখেছেন। এর মধ্যে অ্যাক্সিস ব্যাংকে ৪০ কোটি, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকে ২৫ কোটি, এইচডিএফসি ব্যাংকে ২০ কোটি এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় ১৫ কোটি রুপি জমা রয়েছে।

শেয়ারবাজারে বিজয়ের বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম। তার মোট ইক্যুইটি বিনিয়োগ ২০ লাখ রুপিরও নিচে। এর মধ্যে জয়া নগর প্রপার্টি প্রাইভেট লিমিটেডে প্রায় ১৯ লাখ ৬৯ হাজার রুপির শেয়ার রয়েছে। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক ও সান পেপার মিল লিমিটেডেও সামান্য বিনিয়োগ আছে।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১১৫ কোটি রুপির ১০টি আবাসিক সম্পত্তি, প্রায় ৮২ কোটি ৮০ লাখ রুপির বাণিজ্যিক সম্পত্তি, ২২ কোটি রুপির অনাবাদি জমি এবং কোডাইকানালের ভাট্টাপাট্টি গ্রামে কৃষিজমি।

বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহেও পিছিয়ে নেই তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তার গাড়ির তালিকায় রয়েছে টয়োটা লেক্সাস ৩৫০, বিএমডব্লিউ আই৭, টয়োটা ভেলফায়ার, বিএমডব্লিউ ৫৩০, মারুতি সুইফট ও টিভিএস এক্সএল সুপারসহ একাধিক যানবাহন।

এ ছাড়া বিজয়ের কাছে প্রায় ৮৮৩ গ্রাম স্বর্ণ ও রুপার অলংকার রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ রুপি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উপহার দিয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, অভিনয়, পেশাগত আয়, ব্যাংকের সুদ এবং ভাড়া থেকেই তার আয়ের প্রধান উৎস আসে। নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত ও স্থাবর সম্পত্তিনির্ভর বিনিয়োগ কৌশলের কারণে তাকে ভারতের অন্যতম ধনী অভিনেতা-রাজনীতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment