খুন করে লাশের টুকরা বিভিন্ন স্থানে ফেলে রুমমেট
Posted on March 01, 2026 9.7K
রাজধানীর তিন জায়গা থেকে এক যুবকের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন চার হাত-পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশ থেকে দুটি কাটা হাত, পল্টনে স্কাউট ভবনের পাশ থেকে একটি পা ও কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়। এভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল একটি লাশের বিভিন্ন খণ্ডাংশ। পরে লাশের অবশিষ্ট দেহ উদ্ধারে মিরপুরে অভিযানে যায় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ওই কাটা হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। নিহতের নাম ওবায়দুল্লাহ (৩০)। এ ঘটনায় তার রুমমেট শাহিনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, পল্টনে নিজ রুমে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর বাইসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে লাশের টুকরাগুলো রাতের আঁধারেই বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন তিনি।
ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী বলেন, একই বাসায় থাকতেন শাহিন ও ভিকটিম ওবায়দুল্লাহ। শাহিন মতিঝিল হিরাঝিল হোটেলের কর্মচারী। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বাসার ওয়াশরুমে কাপড় ধুচ্ছিলেন ওবায়দুল্লাহ। এ সময় পেছন থেকে চাপাতি দিয়ে প্রথমে ঘাড়ে কোপ দেন শাহিন। এতে ওবায়দুল্লাহ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে ওই চাপাতি দিয়ে লাশ টুকরা টুকরা করে পলিথিনে বেঁধে রাতেই নিজের বাইসাইকেলে করে প্রথমে দুই হাত ও দুই পা ফেলে আসে শাহিন। এরপর সিএনজিতে করে অবশিষ্ট দেহ ফেলে আসেন মিরপুরে। স্কাউট ভবনের পাশে এক যুবককে বাইসাইকেলে করে লাশের টুকরা ফেলে আসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে মতিঝিল এলাকা থেকে শাহিনকে আটক করে পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন সবকিছু স্বীকার করে। হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে শাহিন পুলিশকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় তার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলত ওবায়দুল্লাহ। আর এটি নিয়েই মনোমালিন্যের শুরু। দিনদিন ওবায়দুল্লাহ তাকে বেশি করে অপমান অপদস্থ করায় সে মনে মনে এর একটি বিহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। তার লাশ যাতে সহজে শনাক্ত না হয় সেজন্য ওই রাতেই বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। সে বিষয়ে জানতে গ্রেপ্তার হওয়া শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। আর উদ্ধার হওয়া লাশের টুকরাগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ওবায়দুল্লাহর বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরের সাধারচর গ্রামে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ওবায়দুল্লাহ ছিল বড়। তার বাবা কৃষি কাজ করেন। ঢাকায় গণস্বাস্থ্য হোমিও নামে একটি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং অফিসার পদে চাকরি করতেন তিনি। মূলত এস এম সারওয়ার নামে এক চিকিৎসকের অধীনে কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব পাশে ঝাড়ুদার ঝাড়ু দেওয়ার সময় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি ব্যাগটি আশপাশের লোকদের দেখান। পরে লোকজন ব্যাগ খুলে মানুষের দুটি হাত দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। এরপর দুটি পায়ের সন্ধান পায় পুলিশ। জানা গেছে, অভাবের সংসারে স্বস্তি আনতে ওবায়দুল্লাহ ঢাকায় ওই চিকিৎসকের অধীনে চাকরি নিয়েছিলেন। থাকতেন পল্টন এলাকার একটি মেসে। মাসে মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। সর্বশেষ বাড়ি গিয়েছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় ফেরেন। তার পরিবার ঢাকায় পৌঁছে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
