বিদ্যুতের দাম বাড়াতে তোড়জোড়
Posted on May 09, 2026 9.8K
জ্বালানি তেলের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। পাইকারি ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়াতে প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন কোম্পানির মধ্যে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লি., ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে জমা দিয়েছে। ২০ ও ২১ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে শুনানি হবে। দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব আমলে নিয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে বিইআরসি। বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকদেখানো গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। ভোক্তারা অনেকটা পদ্ধতিগত লুণ্ঠনের শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, পাইকারির সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এ বিষয়ে পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে দাম কতটা বাড়বে- জানা যাবে। ১ টাকা ২০ পয়সা এবং ১ টাকা ৫০ পয়সা করে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। দেখা যাক, কোন প্রস্তাব গৃহীত হয়। বিইআরসির যুগ্মসচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিইআরসি গণশুনানি করতে যাচ্ছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের মূল্যায়ন করবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি। এরপর মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ ও সব সংস্থার প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের অংশগ্রহণে গণশুনানি হবে। যৌক্তিকতা প্রমাণ করে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি। সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। সে সময় পাইকারি ৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ বাড়ে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট খুচরা বিদ্যুতের দাম গড়ে ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা। সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে ১৬ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। জ্বালানি আমদানি ব্যয়, ডলার সংকট, এলএনজি, কয়লা, তেলের দাম এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় বৃদ্ধিকে দাম বৃদ্ধির যুক্তি হিসেবে দেখাচ্ছে সরকার। ৯ এপ্রিল দাম সমন্বয়ের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, আমরা দেড় থেকে দুই দশক ধরে ‘পদ্ধতিগত লুণ্ঠনের’ শিকার। আওয়ামী লীগ সরকার যে লুণ্ঠনের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল তা অক্ষত রেখে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ আইন বাতিলের অধ্যাদেশে ২(ক) ও ২(খ) যুক্ত করে এ আইনের আওতায় কৃত সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয় এবং তা এই নির্বাচিত সংসদে পাস করা হয়। এতে লুণ্ঠনের ক্ষেত্র আরও মজবুত হলো।
