দুর্নীতির অভিযোগে নড়াইল নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রশিক্ষক অবরুদ্ধ

Posted on January 22, 2026   9.4K

নড়াইল নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ আফরোজা খাতুন ও তার সহযোগী প্রশিক্ষক রেক্সনা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্তের আশ্বাস পেলে শিক্ষার্থীরা তাদের মুক্তি দেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে ওই দুজনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় কলেজ চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৬ নভেম্বর অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আফরোজা খাতুন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ, পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষার্থীদের মেসের টাকা আত্মসাৎ, গালাগাল, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারির (ডিজিএনএম) বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু হয়। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে অধ্যক্ষ ও প্রশিক্ষককে অবরুদ্ধ করা হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁদের পদত্যাগ, দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবিতে তিন দফা দাবি জানান।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাকি দাবিগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় আমরা তাদের ছেড়ে দেই।

অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ আফরোজা খাতুন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি যত ব্যাখ্যাই দেই, তারা তা শুনতে চায়নি। আমাকে যে অসম্মান করা হয়েছে, তার বিচার আমি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম।

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রশিদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment