যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থীকে হত্যা : বেরিয়ে এলো রোমহর্ষক তথ্য
Posted on April 27, 2026 8.3K
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
এর আগে, ১৬ এপ্রিল থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। জানা যায়, বৃষ্টি ও লিমন প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন, পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের দিনও ধার্য হয়েছিল। নিহত জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। নিখোঁজ নাহিদা এস বৃষ্টিও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে লিমনের মরদেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হিলসবরো কাউন্টি আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
আবেদনে প্রসিকিউটররা জানান, মামলার প্রাথমিক প্রমাণে অভিযোগের ভয়াবহতা স্পষ্ট। এ কারণে প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার দাবি জানানো হয়।
আদালতে জমা দেয়া নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ’র বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ। তাকেও অভিযুক্ত ব্যক্তি হত্যার পর দেহ কয়েক টুকরো করে নদীতে ফেলে দিয়েছেন বলে তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
২৬ বছর বয়সি আবুঘরবেহকে শনিবার সকালে আদালতে হাজির করা হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন শুনানি পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা হবে।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্তের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ধরন অত্যন্ত নির্মম ও সহিংস। তাকে মুক্তি দিলে সমাজের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। কোনো শর্তেই তার মুক্তি জনসাধারণকে নিরাপদ রাখতে পারবে না।’
হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃতদেহ গোপন করা, মৃত্যুর তথ্য আড়াল করা, প্রমাণ নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং মারধরের অভিযোগও আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস।
প্রি-ট্রায়াল আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টিকে সম্ভবত লিমনের মতো একইভাবে হত্যা করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তদন্তকারীরা বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন, লিমন ও সন্দেহভাজন অভিযুক্তের অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে তারা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টিকেও লিমনের মতো হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।
